Default Image
23, Feb 2026
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজার: একটি সম্ভাবনাময় আগামীর সন্ধানে

বিভাগ: ইকোনমিক পলিসি ও প্রবাসী কল্যাণ

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি দুটি—একটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরে শ্রমজীবী মানুষের ঘাম, আর অন্যটি বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স কি আমরা কেবল ভোগবিলাসেই ব্যয় করছি, নাকি একে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে রূপান্তর করতে পারছি?

রেমিট্যান্স: শুধু টাকা নয়, উন্নয়নের জ্বালানি

প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে আসে। সাধারণত এই টাকার বড় অংশ ব্যয় হয় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনায়। যদিও এগুলো ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করে, কিন্তু দেশের শিল্পায়নে এর ভূমিকা সরাসরি অনুভূত হয় না। Resident For Policy Dialogue & Expatriate Research (RPDER) মনে করে, প্রবাসীদের এই কষ্টার্জিত অর্থ যদি সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে (Share Market) বিনিয়োগ করা যায়, তবে তা দেশের অর্থনীতির চিত্র বদলে দিতে পারে।

কেন প্রবাসীদের পুঁজিবাজারে আসা উচিত?

১. সরাসরি মালিকানা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে একজন প্রবাসী দেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারেন। ২. উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনা: জমি কেনা বা ব্যাংকে অলস টাকা রাখার চেয়ে ভালো মানের মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে। ৩. দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ: প্রবাসীরা যখন শেয়ার কেনেন, সেই মূলধন কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট ও আরপিডিইআর (RPDER)-এর ভূমিকা

আমরা জানি, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে অনেক চড়াই-উতরাই দেখা গেছে। সাধারণ এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেক সময় আস্থার অভাব লক্ষ্য করা যায়। এখানে RPDER একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে চায়।

আমরা আমাদের গবেষণার মাধ্যমে নিচের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি:

  • স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: বাজার কারসাজি রোধে নীতিনির্ধারকদের সাথে সংলাপ।
  • সঠিক তথ্য সরবরাহ: প্রবাসীরা যাতে কোনো গুজবে কান না দিয়ে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত পলিসি ব্রিফ প্রদান।
  • সহজ বিনিয়োগ পদ্ধতি: এনআরবি (NRB) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও ডিজিটালাইজ করার দাবি জানানো।

উপসংহার

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আপনার পাঠানো রেমিট্যান্স কেবল আপনার পরিবারের সুরক্ষা নয়, বরং দেশের শিল্পায়নের শক্তি হোক। সঠিক পলিসি এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Sorry, no related posts found.